শিশুরা নিজেদের অনলাইনে নিরাপদ রাখবে যেভাবে

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১২:৪১  
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগের সাইটে বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হতে হবে। প্রয়োজন না হলে সাইটগুলোতে বেশি তথ্য না দেওয়াই ভালো। পাশাপাশি তথ্য নিরাপদে রাখতে সেগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত না করে কেবল বন্ধুদের কাছে প্রদর্শন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কখনোই অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে আসা বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ গ্রহণ করা যাবে না। বাস্তব জীবনে যেমন অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে সতর্ক থাকতে হয়, তেমনি অনলাইনেও অপরিচিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে সাবধান হতে হবে। এ জন্য ছোটবেলা থেকেই শিশুদের অনলাইনে সতর্ক থাকার কৌশল শিখতে হবে। শিশুদের মনে রাখতে হবে, অপরিচিত কোনো ব্যক্তি অনলাইনে আমন্ত্রণ জানালে বা অশোভন কোনো কাজ করলে অবশ্যই অভিভাবকদের জানাতে হবে।
ই–মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগের সাইটে অ্যাকাউন্টের জন্য অবশ্যই আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ শব্দ, বাক্য বা ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ফোন নম্বর বা পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড দেওয়া যাবে না। বড় ও ছোট অক্ষরের সমন্বয়ে কমপক্ষে ১২ সংখ্যার নাম ও পাসওয়ার্ড দিতে হবে। এতে পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তা বাড়বে। অনলাইনে পরিচয় হওয়া বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সময় অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। পরিচিত স্থান ছাড়া দূরে কোথাও তাদের সঙ্গে দেখা না করাই ভালো। প্রয়োজনে অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সবশেষে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কঠোর হতে হবে অনলাইনে। যতই পরিচিত হোক না কেন, অনলাইনে কখনোই নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য, ছবি বা ভিডিও বিনিময় করা যাবে না। কারণ, ভবিষ্যতে এসব ছবি বা ভিডিও প্রতারণার কাজে ব্যবহার হতে পারে। শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখার কৌশল শেখাতে বাংলাদেশে নিজেদের অনলাইন সেফটি প্ল্যাটফর্ম ‘ডিজিওয়ার্ল্ড’ চালু করেছে গ্রামীণফোনের মূল প্রতিষ্ঠান টেলিনর গ্রুপ। ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বাংলা ভাষায় তৈরি প্ল্যাটফর্মটিতে খেলার ছলে অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ মিলে থাকে। এ ছাড়া ইউনিসেফের সহযোগিতায় প্রায় ১০ লাখ শিশুকে অনলাইন নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দিয়েছে সরকার। শুধু তা–ই নয়, ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে কুইজের মাধ্যমে অনলাইনে নিরাপদ থাকার কৌশল শেখার সুযোগ মিলে থাকে।